Showing posts with label চিকুনগুনিয়া রোগ কি এবং তার করনীয়. Show all posts
Showing posts with label চিকুনগুনিয়া রোগ কি এবং তার করনীয়. Show all posts

Friday, 26 January 2018

চিকুনগুনিয়া রোগ কি এবং তার করনীয়




সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত একটি রোগ হচ্ছে চিকুনগুনিয়া। চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ১৯৫২ সালে সর্বপ্রথম তানজানিয়ায় রোগটি ছড়িয়েছিল বলে জানা যায়। দেশটিতে রোগটিকে মাকোন্ডি বলা হতো, যার অর্থ হচ্ছে মোচড়ানো
চিকুনগুনিয়া রোগটি চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। তানজানিয়াতে মহামারী চলাকালীন রোগটিকে ডেঙ্গু জ্বর থেকে আলাদা করা যায়নি। ভাইরাসটি আফ্রিকা এশিয়াতে পাওয়া যায়। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ভারতে ২০০৪-২০০৬ সালে এই রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটে। চিকুনগুনিয়া ভাইরাসটি মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। সাধারণত বৃষ্টি বৃষ্টিপরবর্তী সময়ে রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটে। থেকে বছর পর পর রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা যায়
এখন জানা যাক এডিস মশা সম্পর্কে। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে। ঘরে-বাড়িতে বা বাসার আশে পাশের যে কোন স্থানে জমে থাকা পানিতে এরা প্রজনন ঘটায়, যেমন- খালি পাত্র, ফুলের টব, গাছে তৈরি হওয়া কোনো গর্ত, এসির জমে থাকা পানি ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে মশা দিনের বেলায় মানুষকে কামড়ায়। রোগটি মশা কামড়ানোর থেকে দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়
এডিস (অবফবং) দুটি প্রজাতি-এডিস ইজিপ্টি এডিস অ্যালবপ্টিকাস এই ভাইরাসের বাহক হিসাবে পরিচিত। মানুষ ছাড়াও বানর, পাখি, তীক্ষè দন্তপ্রাণী যেমন ইদুরে এই চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের জীবনচক্র বিদ্যমান,এখানেই ডেঙ্গু ভাইরাসের সাথে এর পার্থক্য কারণ ডেঙ্গু ভাইরাস শুধু স্থন্যপায়ীদের আক্রান্ত করে
উপসর্গ
* জ্বর হওয়া, সাধারণত ১০১ এর বেশি
* শারীরিক দূর্বলতা
* গিড়ায় ব্যথা হওয়া, গিড়া ফুলে যাওয়া
* চামড়ায় ্যাশ হওয়া, চুলকানী
* চোখে ব্যথা
* মাথা ব্যথা
* পিঠ ব্যথা
* মাংসপেশীতে ব্যথা
* মুখে ঘা হওয়া
* রক্তপাত
* প্র¯্রাব কমে যাওয়া
* বমি হওয়া
* ডায়েরিয়া
* ক্লান্তি
* পেট ব্যথা
* কনজাংটিভাইটিস
* ফটোফোবিয়া বা আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা
* বড়দের আর্থরাইটিস বা জয়েন্ট প্রদাহ হতে পারে
ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার কিছু পার্থক্য
ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া দুটোই ভাইরাস জ্বর। পাশাপাশি থাকে তীব্র শরীর ব্যথা। তবে পার্থক্য হলো, ডেঙ্গুজ্বরে চোখ মাথায় প্রচন্ড ব্যথা হয়, মাংসপেশি হাড় ব্যথাও হয়। তবে গিরা তেমন ফুলে না বা ব্যথাও কম থাকে। কিন্তু চিকুনগুনিয়ার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে গিরায় ব্যথা। আফ্রিকার আঞ্চলিক ভাষায় এই চিকুনগুনিয়ার মানে বাঁকা হয়ে যাওয়া। কেউ বলেন ল্যাংড়া জ্বর। কারণ এতে আক্রান্ত রোগীর ঘাড়, পিঠ, মাজায় এত তীব্র ব্যথা হয় যে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়। তখন কেউ কেউ খুঁড়িয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। সম্প্রতি বাংলাদেশে রোগটির আকস্মিক বিস্তার দেখা দিয়েছে
সাধারণ চিকুনগুনিয়ায় জ্বর, ত্বকে ্যাশ, সন্ধি বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা গায়ে ব্যথা করে। এর চেয়ে তীব্র হলে সন্ধি ফুলে যায়, গায়ে তীব্র ব্যথা, চোখে ব্যথা, রক্তচাপ প্র¯্রাব হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা হতে পারে। রোগটি সবচেয়ে জঠিল রূপ নিলে উচ্চমাত্রার জ্বর, সন্ধি ব্যথা ফোলা, বমি এবং ডায়রিয়ায় রোগী অচেতনও হয়ে যেতে পারে। তবে চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর চেয়ে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কম। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এরোগের জঠিলতা তুলনামুলক ভাবে বেশি
ডেঙ্গু সাধারণত থেকে দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে চিকুনগুনিয়ার রোগী থেকে ১০ দিনে সেরে উঠলেও ব্যথা কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এমনকি জ্বরটা সেরে গিয়ে আবারও হতে পারে
চিকুনগুনিয়া রোগ হলে করণীয়
* প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে, যেমন- ডাবের পানি, স্যালাইন। অথবা শুধুমাত্র পানির সাথে লবন মিলিয়েও খাওয়া যেতে পারে
* গরমের সময়ে যথেষ্ট পরিমানে বিশ্রাম নিতে হবে
* গিড়ায় ব্যথা হলে বরফ লাগাতে হবে, গরম সেঁক দেয়া যাবে না
* কোনো ব্যথার ঔষধ অথবা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না
কখন হাসপাতালে নিতে হবে
* রক্তচাপ যদি কমে যায়
* প্রস্রাব কম হলে
* রক্তপাত হলে
* অজ্ঞান হয়ে গেলে
* ঔষধে গিড়ার ব্যথা না কমলে
* রোগী বৃদ্ধ, শিশু অথবা গর্ভবতী হলে

 প্রতিরোধ
* মশার প্রজননস্থল ধবংস করতে হবে। খালি পাত্র, ফুলের টব, গাছে তৈরি হওয়া কোনো গর্তে অথবা এসির পানি জমতে দেয়া যাবে না
* ঘরে মশানাশক ঔষধ (মশার কয়েল, ভ্যাপোরাইজার) ব্যবহার করতে হবে
* দিনের বেলায় ঘুমালে মশারী ব্যবহার করতে হবে



বাসক পাতার উপকারিতা

বাসক বোটানিকাল নাম:  Adhatoda vasica পরিবার:  Acanthaceae ব্যবহৃত অংশ: পাতা ,  শিকড় ,  ফুল ও বাকল বাসক পাতার মধ্যে  Quinazoline ...